জনসমক্ষে চড় খেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

 



জনসমক্ষে চড় খেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারনার কাজে এমানুয়েল ম্যাক্রঁ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় সফর করার সময় একজন ব্যক্তি তাকে প্রকাশ্যে চড় মেরেছেন, জানা গেছে যখন প্রেসিডেন্ট হাত মেলাতে লোকজনের কাছে চলে যায় তখন ই চড় মেরে বসে।

সামাজিক যোগাযোগের  মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ দৌড়ে একটি ব্যারিকেডের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। ব্যারিকেডের অপর পাশে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল তাকে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্দেশ্য।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য সেখানে যাওয়া মাত্র এক ব্যক্তি তাকে আচমকা চড় মারেন।

এসময় প্রেসিডেন্টের সাথে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনার সাথে সাথে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তার পরে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁকে এই ঘটনাকে 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' বলে বর্ণনা করেন সংবাদ মাধ্যমকে।

তবে সাধারণ মানুষ ধরে নিয়েছে কিছু মাস আগে মুসলমানদের ধর্মিও মনোভাবে আঘাত ও নবী (সঃ) অপমানের কারনে হতে পারে।

এইদিকে, যে ব্যক্তি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে চড় মেরেছেন তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, "ম্যাক্রঁ-বাদ নিপাত যাক গনতন্ত্র মুক্তি পাক।"

ভিডিওতে দেখা গেছে, চড় মারার কিছুক্ষণ পরে প্রেসিডেন্ট  ম্যাক্রঁ আবারো ব্যারিকেডের দিকে আসেন এবং মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেন।

এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ গণ মাধ্যমকে বলেন, "আমি এটা আগেও করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। কোন কিছুই আমাকে থামাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন মিঃ ম্যাক্রঁ।

যিনি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁকে চড় মেরেছেন তার পরিচয় এবং কি কারনে করেছে সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। এই দুই ব্যক্তিকে পুলিশ এখন জেরা করছে জানানো হয়।

প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তারক্ষীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে নিরাপত্তা দেন অনেক কড়াকড়ি ভাবেই।

ফ্রান্সের প্রেসিডেটেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্সি সিকিউরিটি গ্রুপ, ফরাসি সিকিউরিটি গুপ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপ হিসেবে বিবেচিত।

এই নিরাপত্তা দলে ৭৭জন নারী-পুরুষ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ যখন কোন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তখন তারা তাকে কড়াকড়ি নিরাপত্তা প্রদান করেন।

প্রেসিডেন্ট যখন কোন অনুষ্ঠানে যাবার সিদ্ধান্ত নেন, তার সফরের আগে সে জায়গাটির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে থাকে এই সিকিউরিটি দলটি। এরপর প্রেসিডেন্টের সফরের সময় তার নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ সদস্যদের মোতায়েন করা হয় নির্ধারিত স্থানে।

ফ্রান্সের একটি টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, মঙ্গলবারের সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সাথে ১০জন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন নিরাপত্তার জন্য।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁকে চড় মারার ঘটনায় ফ্রান্সের রাজনীতিবিদরা নিন্দা জানিয়েছেন এবং সমালোচনা করেছেন বিষয়টি নিয়ে।

ফরাসী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গণতন্ত্র অর্থ হচ্ছে বিতর্ক করা এবং আইনত ভিন্নমত পোষণ করা সমালোচনা তৈরি করা। এই অর্থ কোনভাবেই সহিংসতা হবে না। মৌখিকভাবে আগ্রাসী আচরণ হোক অথবা শারীরিকভাবে আঘাত কখনোই গণতন্ত্র হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন ফরাসী প্রধানমন্ত্রী।


Post a Comment

0 Comments