দাফনের ৩৯ দিন পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোল

 


দাফনের ৩৯ দিন পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোল

ময়মনসিংহ জেলার,  ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়, উচাখিলা ইউনিয়নে চরআলগী গ্রামে ৩৯ দিন পর এক তরুণীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে  আজ ২১ জুন  সোমবার সকালে কবরস্থান থেকে তরুণীর লাশ উত্তোলন করা হয়।
গতমাসে ১২ মে রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় ১৩ মে ২০২১ দাফন করা হয়েছিল তাকে।

এই দিকে, পুলিশ জানায়,  উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের স্বপনের মেয়ে মোছঃ স্বর্ণা আক্তার (১৬)। এলাকারস্বপনের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে উচাখিলা বাজারে পরিত্যক্ত একটি সরকারি ঘরে বসবাস করতেন ময়েটি। এইদিকে,  ১২ মে রাতে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়  স্বর্ণা খাতুন। এবং হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়েছিল- যে তার মৃত্যু হয় যক্ষার জীবাণু শরীরে ছড়িয়ে পড়া এবং এই জীবাণু ব্রেইনের রক্তনালীতে বাসা বাঁধার কারণে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়।এবং মৃত্যুর পরে ১৩ ২০২১ মে পরিবারের লোকজন মৃত্যের মরদেহ দাফন করেন ইসলামপুর মাদ্রাসার কবরস্থানে।

এইদিক জানা গেছে, ২৪ ২০২১মে ময়মনসিংহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা করেন তরুণীর বাবা স্বপন আহমেদ। এতে করে আসামি করা হয় উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, তার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মঞ্জুরুল হককে, তরুণীর মা সহ ৫ জনকে। এবং গত ৩১ ২০২১মে আদালতের নির্দেশে মামলাটি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে মায়ের সহায়তায় উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণীটিকে বিয়ের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। এতে মেয়েটি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। কিন্তু এতে রক্তক্ষরণ শুরু হইলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর ১২ ২০২১মে রাতে মারা যায় মেয়েটি। মৃত্যুর পর উচাখিলা থেকে বেশ দূরে ইসলামপুর এলাকায় দাফন করা হয় তার মরোদেহ।

এবং মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিনের উপস্থিতিতে গোয়েন্দা পুলিশ স্বর্ণার লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পেরন করেন বলে জানা গেছে।

এইদিকে,মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক আহমেদ জানান, মৃতুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আমরা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সঠিক কারন জানতে পারবো।

Post a Comment

0 Comments