আজকে প্রথিতযশা সাহিত্যিক আবুল ফজলের ১১৮তম জন্মদিবস

 


ডেস্ক রিপোর্ট:

আজকে প্রথিতযশা সাহিত্যিক আবুল ফজলের ১১৮তম জন্মদিবস 

বাংলা সাহিত্যির প্রবাদপ্রতিম যে ক'জন মুসলিম সাহিত্যিকদের উন্মেষ ঘটে তাদের মধ্যে অন্যতম আবুল ফজল ।

 তিনি ছাত্রজীবনেই 'বুদ্ধি মুক্তির আন্দোলন' এর অন্যতম কর্ণধার হিসেবে আন্দোলন গড়ে তোলেন। যার মূল কথা ছিল, 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।' এই আন্দোলনের মুখপাত্র 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন তিনি। ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। কথাশিল্পী আবুল ফজল লেখনীর মাঝে স্বদেশপ্রেম, মানবতা ও অসম্প্রদায়িক জীবনচেতনা প্রস্ফুটিত হয়েছে।

 তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ : জীবনপথের যাত্রী,রাঙ্গা প্রভাত(১৩৬৪),চৌচির(১৯৩৪),মাটির পৃথিবী(১৩৪৭),আয়েশা, আবুল ফজলের শ্রেষ্ঠ গল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, সমাজ সাহিত্য রাষ্ট্র, শুভবুদ্ধি(১৯৭৪), সমকালীন চিন্তা, রেখাচিত্র, সফরনামা, দুর্দিনের দিনলিপি, প্রদীপ ও পতঙ্গ, মানবতন্ত্র ইত্যাদি। তাঁর 'মানবতন্ত্র' গ্রন্থ থেকে 'মানব-কল্যাণ' নামক একটি প্রবন্ধ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত। এই প্রবন্ধে লেখক মনে করেন, মুক্তবুদ্ধিই সহায়তায় পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব।

 সাহিত্য চর্চায় অবদানের জন্য “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে। এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, আব্দুল হাই সাহিত্য পদক লাভ করেন তিনি। আজ তাঁর ১১৮তম জন্মদিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আবৃত্তি পরিষদ ও ওয়াল্ড মুসলিম লিটারেচার কাউন্সিল অফ বাংলাদেশ উদ্যোগে 'সাহিত্যক আবুল ফজল ও সমকালীন সাহিত্য' শীর্ষক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 তরুণ লেখক ও সমালোচক প্রিয় ভাইজান বলেন,'সাহিত্যিক আবুল ফজল এর হাত ধরে যে মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকাশ পায় তা আজ উপেক্ষিত, যার কারণে আমাদের শিক্ষা-সাহিত্য-জনজীবনে দুর্ভোগ নেমেছে। তিনি আরও বলেন, 'এই অস্থির পূর্ণ সমাজ থেকে বের হতে হবে। আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ে মুক্তবুদ্ধি ও মত প্রকাশের স্বাধীন পরিবেশ সূচিত করতে হবে, অন্যথায় আমরা আরো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ধাবিত হতে থাকবো। অনুষ্ঠানে আরও বক্ত্যে প্রদান করে রুবাইয়াৎ নাহিয়ান, সালমান মুহাম্মদ ফয়সাল, গিয়াস উদ্দিন আবিদ, ফায়সাল আহমেদ প্রমুখ।

Post a Comment

0 Comments